'উজান
' একবিংশতিতম সংখ্যা বেরিয়েছিল ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ। মাস কয়েক হয়ে গেল। বছরে
একটিই বেরোয়। ২০২৫-শে ২১-শে ফেব্রুয়ারি দিনে বাংলাদেশ সরকার "একুশে পদক' দিয়ে সম্মানিত করেন "অভ্র কি-বোর্ড'-এর
প্রতিষ্ঠাতা মেহেদী হাসান খান এবং তাঁর সঙ্গী তানবিন ইসলাম সিয়াম,রিফাত নবী,শাবাব মুস্তাফা-র দলটিকে। ২০০৩-এ এঁদের
দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কি-বোর্ড ব্যবহার আন্তর্জালে বাংলা লেখালেখিকে অত্যন্ত সহজ করে
তুলে। জেনে না জেনে আমরা তাঁদের সরঞ্জাম ব্যবহার করে এসেছি ভারতে বাংলাদেশে এবং
বাকি বিশ্বে বাংলা সহ প্রতিবেশী ভাষাগুলো লিখতে। এমন কি শুরুর দিকে অসমিয়া লিখতেও
এই সফটওয়্যার ব্যাপক ব্যবহৃত হয়েছে।
কম্প্যুটারে, আন্তর্জালে বাংলা ও অসমিয়া লেখা পড়বার
গতি প্রকৃতিকে ধরেছেন এবারে উজান পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলী। অসমিয়াতে এমন ভাবনা
নিয়ে ইতিমধ্যে "গরীয়সী'-র মতো
বিখ্যাত কাগজ কাজ করলেও ভারতে বাংলা কোনো কাগজ এমন পরিকল্পনা করে নি। উজান-ই এবারে
প্রথম ভাবল,যখন আমাদের লেখা-পড়া-বলা-শোনা এখন ক্রমেই
আন্তর্জাল নির্ভর হয়ে পড়ছে। বিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্তর্জালের ব্যাপক ব্যবহার
বাড়ছে। এমন কি ২০২২ থেকে কৃত্রিম ধী তথা বুদ্ধিমত্তা (AI) আসবার
পর থেকে ভাষা ব্যবহারের বহু নতূন ধরন ও চিন্তা শুরু হয়েছে। এর যতটা পারেন সবটাই
এবারে ধরেছে "উজান' পত্রিকা। এর জন্যে তাঁরা অতিথি সম্পাদক হয়ে কাজ করবার
জন্যে সঙ্গে নিয়েছেন কলকাতার সরসুনা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তন্ময় বীরকে। তাঁর
সঙ্গে রয়েছেন উজানের মুখ্য সম্পাদক অধ্যাপক সুশান্ত কর। নন্দিতা মুখার্জি,
জীবন কৃষ্ণ সরকার, সবিতা দেবনাথ, ভানু ভূষণ দাস, সুজয় কুমার রায়, ত্রিদিব দত্ত প্রমুখ সম্পাদক মণ্ডলীর অন্যান্যরা রয়েইছেন।


সংখ্যাটি সাজাতে ভারত বাংলাদেশে বাংলা ও অসমিয়া ভাষা
নিয়ে আন্তর্জালে কাজ করেন এমন কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি তথা প্রযুক্তিবিদ, ভাষাবিদ ও সাহিত্য
কর্মী এই সংখ্যাতে লিখেছেন। লিখেছেন বাংলাদেশ থেকে অভ্র দলের
হয়ে শাবাব
মুস্তফা, সৈয়দ মূসা রেজা। ড. অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে
সি-ড্যাক কলকাতার গবেষকেরা কলম ধরেছেন। "ইউনিকোডের অভিযাত্রা' নিয়ে লিখেছেন পীযুষকান্তি বিশ্বাস; কৃত্রিম ধী
ব্যবহার করে কবিতা কীভাবে তৈরি হচ্ছে সেই নিয়ে কি-বোর্ড চেপেছেন ইন্দ্রনীল
সেনগুপ্ত, কৃত্রিম ধী নিয়ে আরও লিখেছেন মনজিৎ নাথ ও
ড.প্রাঞ্জল কলিতা । লিখেছেন কৃত্রিম ধী-র গবেষক সন্দীপন ধর। "অভ্র কি-বোর্ড'-এর
অসমিয়া সমতুল "রোদালি'-র স্রষ্টা অধ্যাপক গুণদীপ চেতিয়া
লিখেছেন আন্তর্জালে অসমিয়া লেখা-পড়ার ইতিকথা। পূর্বোত্তর ভারতের বহুভাষীক আন্তর্জাল
অভিধান শব্দ ডট অর্গ-এর জন্ম থেকে এই পর্যন্ত যাত্রা কাহিনি লিখেছেন বিক্রম
মজিন্দার বরুয়া। আন্তর্জালের বিভিন্ন ব্লগ ও ম্যাগাজিনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন
মৃন্ময় দেব, বই-পত্রিকার সন্ধান দিয়েছেন চণ্ডিকা দাস। নিজেদের সাময়িক পত্রিকা "এককমাত্রা'-র দীর্ঘ কুড়ি বছরের সংগ্রামের শেষে কীভাবে আন্তর্জালে এল তার এক মন সমৃদ্ধ
গল্প লিখেছেন অনিন্দ্য ভট্টাচার্য, আর অসমের জ্যেষ্ঠ
সাংবাদিক প্রণবানন্দ দাশ লিখেছেন গত তিন চারদশকে দৈনিক কাগজের বিবর্তন এবং
আন্তর্জাল যুগে এর বিপন্নতার কথা। দুটি ছোটো গল্পে আন্তর্জালকে ধরেছেন
কথাশিল্পী বিদ্যুৎ পাল ও আইভি চট্টোপাধ্যায়।
এছাড়াও সদ্য-প্রয়াত গণ-শিল্পী জুবিন গার্গের গানের এক
দীর্ঘ মূল্যায়ন করেছেন প্রাগজ্যোতি গগৈ। এবছরে ভূপেন হাজরিকা ছাড়াও একাধিক বাঙালি
প্রতিভার জন্ম শতবর্ষ। এদের মধ্যে সর্বাগ্রে মনে পড়বে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের
কথা। এছাড়াও রয়েছেন কবি ও সঙ্গীত শিল্পী সলিল চৌধুরী প্রমুখ আরও অনেকে।
উজান ভূপেন হাজরিকা, সলিল চৌধুরী এবং কবি সুকান্তকে অন্তত
ছুঁয়ে গেছে এই সংখ্যাতে। লিখেছেন যথাক্রমে শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার, দীপক সেনগুপ্ত ও অধ্যাপক হিমাংশু শেখর বিশ্বাস। প্রচ্ছদ সাজিয়ে দিয়েছেন ত্রিদিব দত্ত, ভেতরের
অলঙ্করণ করে দিয়েছেন শুভজিৎ পাল।
আগের ছয়টি সংখ্যাও "কাঠের
নৌকাতে' চড়েছিল।
এখানে ক্লিক করে পড়তে পারেন।এবারে চড়ছে একবিংশতিতম সংখ্যা...আপনি এখানেই পত্রিকাটি পুরো
পড়তে পারেন। বোতাম টিপে বড় করে পর্দা জুড়ে পড়তে পারবেন। যেটি আপনার সুবিধে।অবসরে
পড়বার জন্যে নামিয়ে নিতেও পারেন।মোবাইলে পড়তে হলে আপনার দরকার পড়তে পারে ১)
ব্লগার্সএবং ২) স্ক্রাইবড। সেগুলো গোগোল প্লেস্টোর্স থেকে নামিয়ে নিলে সুবিধে।
উজান ৵ একবিংশতিতম সংখ্যা; ২০২৫ by Sushanta Kar